করোনার আতঙ্কের চেয়ে আড় আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গু মশা নিয়ে

করোনার আতঙ্কের চেয়ে আড় আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গু মশা নিয়ে

 করোনার আতঙ্কের চেয়ে আড় আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গু মশা নিয়ে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন,ডেঙ্গু মশা,ডেঙ্গু জ্বরের বাহক কোন মশা,chittagong city corporation,chittagong city corporation job circular 2021,ডেঙ্গু মশা png.
ডেঙ্গু মশা 

চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসের সময় নতুন করে দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু। চট্টগ্রাম নগরের মানুষ রয়েছে এখন আরো একটি আতঙ্কে,সেটা হলো ডেঙ্গুর।বর্ষার শেষের দিকে করোনার পাশাপাশি অনেক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গু। এতিমধ্যে ১৫ থেকে ১৬ জনের মত রোগী ভর্তি হয়ে সরকারি হাসপাতালে। এছাড়া নগরজুড়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছে অনেকেই যাদের নাম সরকারি খাতায় নেই।এমন পরিস্থিতি দেখে চট্টগ্রামের মানুষ ভয়ে জীবন যাপন করছে।তাদের আশা সরকার এর একটি ব্যবস্থা গ্রহন করবে।


তবে সরকারি ভাবে কোন কার্যক্রম শুরু হয়নি এখনো।যদি শুরু থেকে এর দমন করা না হয় তবে অধিক হারে ডেঙ্গু রোগে আক্রমণ হবে নগরবাসী এমন মনে করেন।চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণ চেয়ে আছে কবে সরকার ডেঙ্গু নিধন অভিযান পরিচালনা করবে।


বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে তালিকা প্রকাশ করলেন চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।তিনি বলেন, গত এক মাসে চট্টগ্রামে সরকারিভাবে তালিকা ভুক্ত আছেন  ১৫ জন ডেঙ্গু শনাক্ত রোগী।যাদের শরীরে পরিক্ষা করে ডেঙ্গু পাওয়া গেছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছে ১৩ জন চট্টগ্রাম নগরীর মা ও শিশু হাসপাতালে।১ জন আছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া আরো একজন রোগীর খবর পাওয়া গেছে হাটহাজারী উপজেলায়। 


চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বেশ কিছু এলাকায় ডেঙ্গু নিধনের জন্য কাজ শুরু করলেও নগরীর প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকায় কোন রকমেই কাজ শুরু হয়নি এখনো।এছাড়া চট্টগ্রাম নগরের অনেক জায়গায় জমে আছে পানি।নালা এবং গর্তের মধ্যে জমে আছে ময়লা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোন রকম ব্যবস্থা না নেওয়াতে বাড়ছে ডেঙ্গু মশা উৎপত্তি এবং এর সাথে দিন দিন বেড়ে চলছে ডেঙ্গু রোগী।এর সঠিক ব্যবস্থা না নিলে ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে নগরের মানুষের জীবন। 


গেল বছর মেয়র  জ ম নাছির উদ্দিনকে দায়ী করেছিল নগরবাসী।কারণ ঐ বছর ডেঙ্গু বেপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল।কিন্তু এই বছর কি ঠিক একই রকম হবে কি না শেটা নিয়ে চিন্তায় আছেন নগরবাসী।কারণ এই  বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলে বর্তমান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।এটি নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 


চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানহা মীরবাড়ী এলাকায় একজন বাসিন্দা বলেন,বর্তমান সময়ে দেশে আবার বাড়ছে মহামারী করোনা ভাইরাস।কিন্তু ঠিক একই সময়ে দেখা দিচ্ছে ডেঙ্গু। এই দুটি মোকাবিলা করে যেতে হবে চট্টগ্রামের মানুষকে। ডেঙ্গু এত বেশি যে দিনের বেলাতে কয়েল জালিয়ে থালতে হচ্ছে। এতিমধ্যে অনেক জন এই রোগে আক্রন্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ডেঙ্গু নিধনের কোন ভূমিকা দেখছি না।আমাদের এলাকা বাসীর দাবি এই বিপদ থেকে সিটি করপোরেশন আমাদের রক্ষা করুক। 


মুরাদপুর এলাকার একজন বলেন,বর্তমান সময়ে যে ভাবে মশা বৃদ্ধি পাচ্ছে যদি এর একটি পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে সাধারণ জনগনের অনেক ক্ষতি হতে পারে।চারি দিকে ময়লা জমে আছে ওখানে জম্ম হচ্ছে মশা। তার জন্য রাতে ভালো করে ঘুমাতে পারছি না।কয়েল দিয়ে কাজ হচ্ছে না।কিন্তু এটি সমাধানে কারো কোন রকম মাথা ব্যাথা দেখছি না।ঘর থেকে বের হয়ে কোথা,ও গেলে হাঁটার সময় মোশা কামড়াচ্ছে। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন,ডেঙ্গু মশা,ডেঙ্গু জ্বরের বাহক কোন মশা,chittagong city corporation,chittagong city corporation job circular 2021,ডেঙ্গু মশা png.
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু মশার উৎপত্তি 


চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. নুরুল হায়দার  বলেন,সরকারি খাতার মধ্যে ১৫ জন এই রোগে আক্রমণ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।তার মধ্যে ১৩ জন রয়েছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে আরেক জন এবং চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দা হাটহাজারী উপজেলায় ১ জন রোগী আক্রমণ হওয়ার কথা আমাদের কাছে আছে।


তিনি আরও বলেন, ‘চট্রগ্রামের সবাই এখনো করোনা আতঙ্কে থাকায় আলাদা ভাবে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাচ্ছে না।না হয় অনেক মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু রোগ পাওয়া যেত।ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সকল মানুকে সর্তক করতে হবে এবং এর পাশাপাশি নিজেকেও সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে যাতে নিজেকে আক্রমণ করতে না পারে।ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যা থেকে চট্টগ্রাম নগরবাসী রক্ষা পাওয়ার জন্য আমি সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ করব যাতে নগরের ওর্যাড পরিষ্কার রাখে এবং মশা নিধনে কীটনাশক প্রয়োগ করে।



এছাড়া এটি নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি  বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মধ্যে ডেঙ্গু রোগ শনাক্ত হয়েছে। আরো শনাক্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আসলে বর্ষাকাল হচ্ছে ডেঙ্গুর মৌসুম। বর্ষা মৌসুমে দেখা না দিলেও শেষ পর্যায়ে দেখা দিচ্ছে।কিন্তু এই বিষয়ে সকলে সর্তক থাকতে হবে। ভয়ের কিছু নেই। আমরা প্রত্যেক উপজেলাগুলোতে ডেঙ্গুর কীট পাঠিয়ে দিয়েছি।এবং সকল উপজেলায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেউ জ্বর নিয়ে চিকিৎসা সেবার জন্য আসলে করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু টেস্টও করাতে বলা হয়েছে।ইনশাআল্লাহ এটির একটি সমাধান হবে খুবই সল্প সময়ে।


তিনি আরও বলেন,আমরা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ করেছি, তারা যেন নগরীর সব জায়গা পরিষ্কার রাখে মানষকে একটি ডেঙ্গু মাশা মুক্ত নগর উপহার দেয় এবং যেন কীটনাশক ছিটায় যাতে ক্ষতিকর মাশা তাড়াতাড়ি মরে যায়। তারা কাজ শুরু করে দিছে ইতিমধ্যে। আশা করি ভয়াবহ কিছু হবে না।’


 সিটি করপোরেশন প্রশাসক সুজন বলেন,এতিমধ্যে আমরা নগরের সকল হাসপাতালকে নির্দেশনা দিয়ে রাখছি যদি কোন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয় তহলে তারা জেন আমাদের সাথে যোগাযোগ করে।এছাড়া আমরা গত শুক্রবার থেকে নগরীর সকল জায়গায় কীটনাশক ছিটানোর কাজ শুরু করেছি।যে এলাকাতে ডেঙ্গু শনাক্ত হবে সেখানে আমরা আলাদাভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।আশা করি আমাদের এই পদক্ষেপ সকলের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন